Divergence Trading এর প্রধান সূত্র

05 Apr 2020

Divergence Trading এর প্রধান আটটি সূত্র

Divergence Trading শুরু করার আগে, আপনাকে এই ট্রেডিং এর প্রধান আটটি সূত্র মনে রাখতে হবে। আজকে আমারা এই সূত্র গুলো নিয়ে আলোচনা করবো। একটা কথা মনে রাখবেন, আমরা আজকে যে বিষয় নিয়ে আলোচনা করবো সেগুলো আপনার অবশ্যই ভালো করে বুঝতে হবে। আমরা আগেই ডাইভারজেন্স ট্রেডিং এর মূল বিষয় নিয়ে আপনাদেরকে জানিয়েছি, কিন্তু আপনি যদি সঠিক ভাবে ডাইভারজেন্স ট্রেডিং শিখতে কিংবা করতে চান তাহলে আজকের এই আটটি প্রধান সূত্র আপনাকে অবশ্যই মনে রাখতে হবে।

সুত্র-১, ভালো দৃষ্টিশক্তি

ভয় পাবার কিছুই নেই! আমরা এখানে কোনও প্রকারের ডাক্তারি টেস্ট এর কথা বলছি না। আমরা এখানে বোঝাতে চেয়েছি, ডাইভারজেন্স ট্রেডকে ভালো করে চিহ্নিত করতে পারা। অনেক সময় আমরা খুব তারাতারি কোনও ট্রেন্ড চিহ্নিত করার চেষ্টা করি যা আমাদের জন্য মাঝে মাঝে সর্বনাশের কারন হয়ে থাকে। ইংরেজিতে একটা প্রবাদ আছে- “Little learning is a dangerous thing” একটি সঠিক ডাইভারজেন্স ট্রেড হবার জন্য মার্কেট প্রাইসকে অবশ্যই নিম্নোক্ত যেকোনও একটি বৈশিষ্ট্যের দরকার পরবেঃ পূর্বের হাই (high) এর থেকে মার্কেট প্রাইসের হাইয়ার-হাই (higher high)
2) পূর্বের লো (low) এর থেকে মার্কেট প্রাইসের লোয়ার-লো (lower low)
3) ডাবল টপ (double top)
4) ডাবল বোটম (double bottom)

যদি আপনি আপনার চার্টে, উপরের চারটি বৈশিষ্ট্যের যে কোনও একটি বৈশিষ্ট্য দেখতে পান তাহলে আপনার ইন্ডিকেটরের দিকে তাকানোর কোনও দরকার নেই। যদি দেখতে না পান, তাহলে বুঝবেন প্রাইসে কোনও ডাইভারজেন্স ট্রেড গঠিত হয়নি। আপনি মরিচিকার পিছনে ছুটছেন এবং খুব দ্রুত একজন ভালো চোখের ডাক্তারের কাছে চলে যান, কারন আপনার দৃষ্টিশক্তি ক্রমশ কমে যাচ্ছে।

সঠিক ডাইভারজেন্স ট্রেন্ড ছবি ১

ভুল ডাইভারজেন্স ট্রেন্ড ছবি ২

সুত্র-২, সফলভাবে মার্কেট প্রাইসের টপ এবং বোটম লাইন আঁকুন

এখন আপনাকে মার্কেট প্রাইস একশন এর উপর নজর রাখতে হবে। মনে রাখবেন, আপনার চার্টে আপনি একটি higher high, একটি flat high, একটি lower low, অথবা একটি flat low এগুলোর যেকোনো একটি দেখতে পারেন।

এখন আপনি চার্টে- পূর্ববর্তী হাই (high) কিংবা লো (low) থেকে মার্কেট প্রাইসের হাইয়ার-হাই (higher high) অথবা মার্কেট প্রাইসের লোয়ার-লো (lower low) বরাবর একটি লাইন আঁকুন, যেটা একটি প্রধান tops/bottom হবে।

সঠিকভাবে যুক্ত টপ ছবি নং ৩

ভুল ট্রেন্ডলাইন আকার চেষ্টা ছবি নং ৪

সুত্র-৩, মার্কেট প্রাইসের দিকে চোখ রাখুন।

আপনি এখন সম্পূর্ণভাবে প্রাইসের দুইটি টপ/Top অথবা দুইটি বোটম/Bottom কে যুক্ত করে একটি ট্রেন্ড লাইন এঁকে ফেলেছেন। এখন আপনি আপনার ইন্ডিকেটরের দিকে লক্ষ্য করুন (যেটা আপনি ব্যবহার করতে পছন্দ করেন) এবং মার্কেট প্রাইসের টপ/Top অথবা বোটম/Bottom এর সাথে ইন্ডিকেটরের টপ/Top অথবা বোটম/Bottom এর তুলনা করুন।

বিঃ দ্রঃ শুধুমাত্র ইন্ডিকেটরের টপ/Top অথবা বোটম/Bottom এর দিকে লক্ষ্য করুন, এছাড়া বাকি সবকিছু ভুলে যান।
ছবি নং ৫ দেখুন

সুত্র-৪, প্রাইস এবং ইন্ডিকেটরের মুভমেন্টের দিকে লক্ষ্য রাখা।

যদি আপনি মার্কেট প্রাইসের দুইটি হাই (high) কে যুক্ত করে একটি লাইন এঁকে থাকেন, তাহলে আপনাকে সেই সাথে অবশ্যই ইন্ডিকেটরের ও দুইটি হাই (high) কে যুক্ত করে একটি লাইন আঁকতে হবে। লো (low) এর ক্ষেত্রেও একই কাজ করবেন। যদি আপনি মার্কেট প্রাইসের দুইটি লো (low) কে যুক্ত করে একটি লাইন এঁকে থাকেন, তাহলে আপনাকে সেই সাথে অবশ্যই ইন্ডিকেটরের ও দুইটি লো (low) কে যুক্ত করে একটি লাইন আঁকতে হবে।

ছবি নং ৬

এক কথায়, মার্কেট প্রাইস এবং ইন্ডিকেটরের টপ/বোটম এর মধ্যে Perfect Match হতে হবে।

ছবি নং ৭ দেখুন

সুত্র-৫, VERTICAL লাইন অংকন করা।

আপনি ইন্ডিকেটরের যে হাই অথবা লো খুজে পাবেন সেটা অবশ্যই মার্কেট প্রাইসের দিকে ঊর্ধ্বমুখী (vertical) ভাবে একই স্থানে হাই অথবা লো নির্দেশ করবে।

সুত্র-৬, স্লোপ (slopes) অংকন করা।
Divergence Trading তখনি হবে- যদি ইন্ডিকেটরের টপ/বোটম (top/bottom) কে যুক্তকারী স্লোপ-লাইন, মার্কেট প্রাইসের টপ/বোটম (top/bottom) কে যুক্তকারী স্লোপ-লাইনের থেকে ভিন্ন হয়। এই স্লোপ-লাইন গুলো হয়

ছবি নং ৯

সুত্র-৭, যদি আপনি বাস মিস করেন তাহলে পরের টা ধরুন।

যদি আপনি আপনার চার্টে একটি Divergence Trading চিহ্নিত করতে পারেন কিন্তু যদি দেখেন মার্কেট আগেই বিপরীত-দিকে চলে গিয়েছে তাহলে মনে করবেন এবারের মতন ডাইভারজেন্স ট্রেন্ড হয়ে গেছে এবং আপনি এবারের মতন বাস মিস করে ফেলেছেন।

হতাশ হবার কিছুই আবার পরের ডাইভারজেন্স ট্রেন্ডের জন্য অপেক্ষা করুন।

ছবি নং ১০

সুত্র-৮, পর্যালোচনা
Divergence Trading সবচেয়ে ভালো কাজ করে লম্বা টাইম ফ্রেমে। বেশি টাইম-ফ্রেমে ট্রেড করলে ভুল সিগন্যাল পাবার সম্ভাবনা খুব কম থাকে। অর্থাৎ, কম ট্রেড করা কিন্তু আপনি যদি ভালো করে আপনার ট্রেডের কৌশল ঠিক করতে পারেন তাহলে কম ট্রেড করেও আপনি ভালো পরিমান প্রফিট করতে পারবেন। ছোট টাইম-ফ্রেমে ডাইভারজেন্স ট্রেন্ড অনেক বেশি পরিমাণ দেখা যায় কিন্তু এটার বিশ্বাসযোগ্যতা অনেক কম থাকে।

আমরা আপনাকে দিব কমপক্ষে ১-ঘণ্টা অথবা তার বেশি সময়ে ডাইভারজেন্স ট্রেন্ড চিহ্নিত করার চেষ্টা করবেন। অন্য অনেক ট্রেডার আছেন যারা, ১৫ মিনিটের অথবা তার থেকেও কম টাইম ফ্রেমে ডাইভারজেন্স ট্রেড করে থাকেন।

মোটকথা, আপনি যদি আমাদের দেয়া এই নয়টি নিয়ম মেনে ডাইভারজেন্স ট্রেড করে থাকেন তাহলে আস্তে আস্তে আপনার ডাইভারজেন্স ট্রেন্ড চিহ্নিত করা এবং এই ট্রেড থেকে প্রফিট করার সম্ভবনা অনেকাংশে বেড়ে যাবে। আর যদি আপনি এই নিয়ম উলো মেনে না চলেন তাহলে আমাদের আশা আপনাদের বার বার আমাদের এই পেজে আসতে হবে এবং বার বার আমাদের আর্টিকেল গুলোকে মুস্খস্ত করতে হবে।

আপনার যে কোন প্রয়োজনে যোগাযোগ করতে পারেন আমার সাথে। চিটার বাটপার থেকে সাবধান থাকবেন।

গুরুত্ব পূর্ন বিষয়ঃ

বন্ধুরা, ফরেক্স ট্রেডে ট্রেনলাইন এবং ফান্ডামেন্টাল এ্যানালাইসিস একটি গুরুত্ব পূর্ন বিষয়, অনেকেই ট্রেনলাইন এবং নিউজ এর ক্ষেত্রে না বুঝে ট্রেড করে থাকেন, তার কারন হলো! ইংরেজী সংবাদ গুলি ভাল করে না বোঝা। যাদের ইংরেজী সংবাদ ভাল করে বুঝতে অসুবিধা হয় এবং ট্রেনলাইন বুঝতে পারেন না তাদের জন্য রয়েছে (ফরেক্স নিউজ বিডি)। আমরা প্রতিদিন বাংলায় ফরেক্স এর সকল সংবাদ এবং টেকনিক্যাল এ্যানালাইসিস প্রকাশ করে থাকি। বন্ধুরা, আপনি ট্রেড করার পূর্বে অবশ্যই আমাদের নিউজ / সংবাদ গুলি ভাল করে দেখে বুঝে ট্রেড করবেন। প্রতিদিন বাংলায় সংবাদ পেতে নিচের দিকে দেওয়া ই-মেইল বক্স থেকে ইমেইল সাবসক্রাইব করুন। ( ইনশাআল্লাহ্ আপনি ফরেক্স থেকে আয় করতে পারবেন )

যে কোন সমস্যায় যোগযোগ করুনঃ এখানে ক্লিক করুন

Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *